করোনাভাইরাস: প্রতি ২০ জনে ১৯ জনই সুস্থ্য হয়েছেন যে ওষুধ ব্যবহারে!


মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সহজলভ্য ডেক্সামেথাসোন ওষুধ ব্যবহারে চমকপ্রদ ফল পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৬০ সালের গোড়ার দিক থেকে বাত, হাপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো ডেক্সামেথাসোন। এখন এটি করোনাভাইরাসে ভেন্টিলেটারে থাকা রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে দারুনভাবে কাজ করছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের বরাত দিয়ে এমনটিই মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা হুইটি। খবর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির।

গবেষকদের দাবি, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কম ডোজের স্টেরয়েড এই চিকিৎসা একটি বড় ধরনের অগ্রগতি। ভেন্টিলেটরে থাকা করোনা রোগীদের মৃত্যুর হার এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনে ওষুধটি। এছাড়া যারা অক্সিজেন সাপোর্টে আছেন; তাদের মৃত্যুর হার এক পঞ্চমাংশ কমিয়ে আনে।

এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধটি ব্যবহারে প্রতি বিশজন করোনা আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ১৯ জনই সুস্থ হয়ে ওঠেন যাদের হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজনই হয় না।

যাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, তাদের মধ্যেও অধিকাংশই সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু কিছু কিছু রোগীর প্রয়োজন হয় অক্সিজেন চিকিৎসা অথবা কৃত্রিমভাবে শ্বাস নেবার জন্য ভেন্টিলেটার লাগাতে হয় কারো কারোর। এধরণের উচ্চ ঝুঁকির রোগীদের জন্যই ডেক্সামেথাসোন সাহায্য করতে পারবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষকরা বলছেন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টায় মানুষের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন শরীরের ভেতর যে ক্ষতিগুলো হয়, এই ওষুধ ডেক্সামেথাসোন সেই ক্ষতি কিছুটা প্রশমন করতে পারবে বলে তারা পরীক্ষায় দেখেছেন।

শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে তখন সেই প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় সাইটোকিন স্টর্ম যেটা প্রাণঘাতী হতে পারে।

এই সাইটোকিন স্টর্ম শরীরের ভেতর ইমিউন ব্যবস্থায় এমন একটা ঝড়, যেখানে প্রতিরোধী কোষগুলো বাইরের সংক্রমণ ধ্বংস করার বদলে শরীরের সুস্থ কোষগুলোও ধ্বংস করতে শুরু করে। যার ফলে বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হয়ে যেতে শুরু করে।

দেখা গেছে যেসব রোগী ভেন্টিলেটারে ছিলেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি এই ওষুধ নেবার ফলে ৪০% থেকে কমে ২৮%এ দাঁড়ায়। আর যাদের অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৫% থেকে ২০% কমে আসে।

Post a Comment

Previous Post Next Post